স্বর্ণতারকা রহস্য, তৃতীয় পর্ব । The Adventure of The Golden Star, part 3

 


স্বর্ণতারকা রহস্য, তৃতীয় পর্ব । 

The Adventure of The Golden Star, part 3


 

তৃতীয় পর্ব


সকালে বেরোনোর সময় আমরা ভাবিনি যে রাত টাও থাকতে হতে পারে তাই অনিক বরুদা বাড়িতে ফোন করে জানিয়ে দিলো যে তাঁরা আজ ফিরতে পারবে না আমারও কোনো চিন্তা ছিলোনা একা মানুষ আর ঘরে তালা; হাতে আরো একটা ছুটির দিন তারপর আবার সোমবার থেকে সেই ডেইলি রুটিন- সকাল-সন্ধ্যা পড়ানো আর বাকি সময়টা বইয়ে মুখ গুঁজে বা কখনো একটু লেখালিখি |

 

নারায়ণ বাবুর বাড়িতে পৌঁছে সোফাতে গা এলিয়ে খানিক ক্ষণ সকলে চুপচাপ বরুদা মুখ খুললো :

কি হে অনিক বড়োই চিন্তিত লাগছে যে |”

বাক্সটার ভিতর মনটা পরে আছে |”

 

নারায়ণ বাবু বসবার ঘরের টেবিলে বাক্সটা রাখলেন এবং আমরা চারজন ঝুকে পরে বাক্সটা আবার ভালো করে দেখতে লাগলাম- লক্ষ্য করলাম হালকা সোনালী রঙের যে ধাতুর মোড়কে বাক্সটা মোড়া ছিল তার ওপর অস্পষ্ট ভাবে কি যেন লেখা, একটুকরো সিরিশ কাগজ দিয়ে ভালো করে ঘসতেই বোঝা গেলো বাক্সটার গায়ে প্রফেসর আর.কে.দাসের নামাঙ্কিত একটা ছোট ট্যাগ-প্লেট এবং তার ওপর একটা তারকা মার্কা লোগো | এবার আমার মাথায় একটা উপায় হঠাৎ করেই খেলে গেলো :

আপনার বাড়িতে ছোট্ট স্ক্রুড্রাইভার হবে নারায়ণ বাবু ?”

হ্যাঁ -কিন্তু কেন -কি ভাবছো তুমি ?”

আপনারা বুঝতে পারছেন না- বাক্সটার উপর সোনালী রঙটা কেন করা হয়েছিল ?”

দাঁড়াও অনাদি তুমি কি বলতে চাইছো, এই ট্যাগ-প্লেটটা লোকানোর জন্য ?” অনিক বললো |

এক্সিলেন্ট অনিক, একদম ঠিক ধরেছো |”

কিন্তু ...”

কোনো কিন্তু না অনিক সিরিশ কাগজ দিয়ে ট্যাগ-প্লেটটার এই ধার গুলো ভালো করে ঘষলে- কি দেখতে পেলে ?”

স্ক্রু- খুব ছোট ছোট- চার কোণে চারটে

এবার হালকা হাতে আলতো করে ট্যাগটায় একটা টুসকি মারো...কি বুঝলে ?”

হ্যাঁ অনাদি এই জায়গাটা ফাঁপা ...”

 

নারায়ণ বাবু বেশ কয়েকটি মাপের ছোট স্ক্রু ড্রাইভার নিয়ে এলেন স্ক্রু চারটি খুবই সাবধানে ধীরেধীরে খুললাম তারপর ট্যাগপ্লেটটা সরাতেই বেরোলো একটা ছোট্ট গোলাকার গর্ত |

অনিক ওই টেবিল থেকে টর্চটা দাও তো ...”

বাক্সটার গর্তটায় টর্চের আলো ফেলে দেখলাম- ভিতরটায় কেমন যেন কয়েকটা বিশেষ খাঁজ লক্ষ্য করলাম, আকৃতিটা কিছুটা তারার মতো, তাহলে- এটা কি কোনো লক, তাহলে এর নির্দিষ্ট কী ছাড়া তো খোলার উপায় নেই |

 

ভেবেছিলাম ট্যাগ-প্লেটটা খুলে হয়তো বাক্সটা খোলার কোনো সহজ উপায় পাবো কিন্তু...| আমি গিয়ে আবার সোফাতে বসলাম অনিক আর নারায়ণ বাবু তখনো টেবিলের ওপর ঝুকে ভ্রু কুঁচকে বাক্সটা দেখছিলো, বরুদা ট্যাগ-প্লেটটা হাতে করে ঘোরাতে ঘোরাতে মুচকি হেসে এসে পাশে বসলো |

এবার উপায় ?”

আচ্ছা বরুদা, মাহাতো বাবু বা অন্য যে কেউই হোক, যারা এই বাক্সের পিছনে পড়েছে তারা এই বাক্সটা পেলে কি করতো - মানে এটা খোলার চাবিটা কি ওদের কাছে থাকতে পারে না ..."

কথা শেষ হওয়ার আগেই হাতটা পকেটের ওপর পড়তেই মনে পড়লো লকেটটার কথা- লকেট টা বের করে ঘাঁটতে ঘাঁটতে হঠাৎ মনে হলো চোর এতো মোটা আর ভারী লকেট পড়ে চুরি করতে আসবে কেন ?

লকেটটা ভালো করে দেখতে লাগলাম, গোলাকার ভারী লকেট টা দুহাতের তালুর মধ্যে নিয়ে সজোড়ে চাপ দিতেই লকেটের ভিতর থেকে ছিটকে বেরোলো একটা সোনালী রঙের ধাতব তারকা | সেটা হাতে তুলে নিয়ে আলোর দিকে ধরলাম; সন্দেহই ছিলোনা যে এটা সোনার- ওটার উপর আলোক রশ্মি পড়ে যেন তার উজ্জ্বলতা বহুগুনে বাড়িয়ে দিচ্ছিলো | আমাদের সকলের ধ্যান যেন কেন্দ্রীভূত হলো ওই তারকার উপর কোনো এক মায়াবী টানে- সত্যিই যেন আকাশের জ্বলন্ত কোনো এক তারার টুকরো | মুগ্ধনয়নে সকলের মুখ থেকে মৃদুস্বরে একটাই কথা বেরোলো, স্বর্ণতারকা

 

 

()

 

এতক্ষণে আর কিছু বুঝতে বাকি ছিলোনা, সকলের কাছেই ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিলো | আমি তৎক্ষণাৎ টেবিলের উপর ঝুঁকে পরে আতস কাচটা টেনে নিয়ে আলোর দিকে মুখ করে স্বর্ণতারকাটিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করতে লাগলাম-

হ্যাঁ, এইতো যা দেখবো ভেবেছিলাম ঠিক তাই...”

কি দেখলে অনাদি ? বরুদা সোফা থেকে উঠে এসে জিজ্ঞাসা করলো |”

এই যে তারকাটির শীর্ষবিন্দুর দিকে খুব ভালো ভাবে নজর দাও- সূক্ষ সূক্ষ কয়েকটি বিশেষ খাঁজ- দেখতে পেলে ?”

হ্যাঁ, তারমানে...”

আর কিছুই না, আমরা যা খুঁজছিলাম সেটাই |”

 

 

অনিক কাছে এসে বাক্সের গর্তটা লক্ষ্য করে টর্চের আলো ফেলো তো- হ্যাঁ ঠিক এইভাবে...”

 

বাক্সটা কাছে টেনে নিয়ে গোলাকার গর্তটিতে স্বর্ণতারকাটিকে রেখে আলতো করে চাপ দিতেই সেটা কিছুটা ভিতরে ঢুকে আটকে গেলো...

আমি মুখ তুলে সবার দিকে তাকিয়ে ইতিবাচক দৃষ্টি দিলাম | তারাও ততক্ষনে টেবিলের উপর ঝুঁকে পড়েছিল | তারপর স্বর্ণতারকাটিকে ঘড়ির কাঁটার দিকে একবার-দুবার-তিনবার-চারবার-পাঁচবার ঘোরাতেই হালকা খটাস শব্দের সাথে সাথেই বাক্সের গায়ের সোনালী ধাতব মোড়কটি আলগা হয়ে গিয়ে- বাক্সটা খুলে গেলো | উত্তেজনায় আমাদের গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠেছে | বাক্সটা খুলতেই দেখলাম- ভিতরে তিনটি কুঠুরি, একটি কুঠুরিতে লাল মখমলে বাঁধানো একটি ডায়েরী আরেকটি কুঠুরিতে একতাড়া রোল করে রাখা কাগজের বান্ডিল, অন্য কুঠুরিটি অপেক্ষাকৃত ছোট সেখানে ছিল বারুদে ঠাঁসা এবং একটি ছোট অ্যাসিডের শিশি | কাগজের বান্ডিল এবং ডায়েরীটাও তখন বারুদে মাখামাখি- ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখা গেলো সব কটা কুঠুরির দেয়ালে ছোট ছোট গর্ত | খুব সাবধানে ধীরে ধীরে কাগজের বান্ডিল ডায়েরিটা বাক্স থেকে তুলে বারুদ ঝেড়ে টেবিলের ওপর রাখার পর আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললাম,

 “নারায়ণ বাবু, এই হলো প্রফেসর আর.কে.দাসের আমানত |”

যাক হাঁফ ছেড়ে বাঁচা গেলো...”

এবার আপনারা একটু বাক্সটার দিকে লক্ষ্য করুন, দেখুন এই যে কুঠুরিতে বারুদ ভর্তি অ্যাসিডের শিশিটা রয়েছে সেটার সাথে অন্য দুটিরও প্রত্যক্ষ যোগাযোগ রয়েছে কিন্তু | অর্থাৎ, কেউ যদি বাক্সটা অসৎ উপায়ে খুলতে চায়, এই যে বাক্সের ভিতরের দিকের তালার অংশটায় অগ্নি স্ফুলিঙ্গ সৃষ্টির যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে দেখুন, ফলে বারুদ মাখা কাগজ পত্রের কি হাল হতো সহজেই অনুমেয় |”

 

অনিক বলল, “আর কেউ যদি বাক্সটা ভাঙতেও চায় তো কাঁচের শিশি ভেঙে অ্যাসিড ভিতরের জিনিস গুলো নষ্ট করে দিতো |”

হ্যাঁ, একদম অনিক |”

বরুদা ধীর কণ্ঠে বললেন, “যাক বাক্সের রহস্য নাহয় সমাধান হলো এখন কি করা যাবে- কিছু কি ভাবছো ?”

 

নারায়ণ বাবু আপনি বরং এই কাগজের বান্ডিল এবং ডায়েরিটা যত্ন করে আপনার বাড়ির লকার- রাখুন আর বাক্সটা আপাতত এই টেবিলের ওপরেই থাকুক |”

 

 

সেকেলে দেয়াল ঘড়িতে তখন টং টং করে নটা বাজলো নারায়ণ বাবু উঠে গিয়ে কিচেনে গেলেন স্ত্রীকে সাহায্যের জন্য, আমরা তিনজন তখন ছাদে উঠে গেলাম মেঘহীন আকাশে অজস্র তারকারাশি, মাথার উপর অর্ধগোলাকৃতি চাঁদ যেন এই শহরের রাত্রিকালীন সৌন্দর্যকে শতাধিক গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছিলো | পরিষ্কার আকাশ- অর্থাৎ বৃষ্টির সম্ভাবনা  আর নেই, তবে মৃদু শীতল হাওয়া মনকে এক গভীর প্রশান্তি দেয় |

 বরুদা ছাদের একপাশের টিমটিম করে জ্বলতে থাকা আলোর দিকে তাকিয়েই অনিককে বললো, ভাবতে পেরেছো অনিক আজ আমরা নিজেরাই কেমন যেন রহস্য উপন্যাসে এসে পড়েছি, অনাদির আড্ডা-আস্তানার গল্প-উপন্যাসের থেকেও ঢের বেশি রোমাঞ্চকর |”

 

অনিক হয়তো অন্য কিছু ভাবছিলো সে বরুদার কথা সহজেই উপেক্ষা করে জিজ্ঞাসা করলো, “আচ্ছা সত্যি আশীষ মাহাতোই কি আমাদের গল্পের খলনায়ক ? মানে আমাদের গল্পে তো তার আবির্ভাব এখনো প্রত্যক্ষ ভাবে হয়নি ...”

না অনিক কখনো কখনো খলনায়ক আড়ালে থেকেও এমন বড় বড় কার্য উদ্ধার করে দেয় যা কেউ কল্পনা করতেও পারে না | সে ওঁৎ পেতে বসে থাকে আর অদৃশ্য অঙ্গুলিহেলনে কাজের কাজ হাসিল করে ফেলে- তারা অতি ভয়ঙ্কর |”

হ্যাঁ, একদম | তবে কি জানো অনিক, সে যদি এখানে এসেই থাকে তবে মন বলছে খুব বেশি অপেক্ষা হয়তো করতে হবেনা আমাদের  মহাপুরুষটির দেখা কালকেই পেতে হবে আমাদের |”

মানে, তুমি কি ভাবছো ? সে আশেপাশেই কোথাও ঘাপটি গেড়েছে ?”

আশেপাশেও আছে আর আড়াল থেকে সবকিছুর ওপর কড়া নজরও রাখছে | তুমি কি ভাবছো সে খবর পায়নি যে বাক্সটা আমরা এখানে নিয়ে এসেছি | ঘরোয়া গুপ্তচর যদি সত্যিই থেকে থাকে নিশ্চয় এতক্ষনে সে খবর পৌঁছে দিয়েছে |”

ঘরোয়া গুপ্তচর- মানে তুমি ধরতে পেরেছো সে কে ?”

হ্যাঁ অনিক, কিন্তু তার থেকেও এখন বড় কথা আমাদের খুব সাবধানে মেপে মেপে পা ফেলতে হবে, আড়াল থেকেই ফাঁদ বেছাতে হবে |”

হ্যাঁ কিন্তু, যদি ওরা জানতে পারে বাক্সটা এখানে তাহলে তো নারায়ণ বাবুর বাড়িতেও বিপদ আছে বলা চলে |”

পুলিশের বাড়িতে বিপদ ? সেভাবে দেখতে গেলে কিঞ্চিৎ বিপদ তো আছেই তবে তারা এখানে কোনো ঝুঁকি নেবে বলে মনে হয়না যেখানে ঘরের বাইরে থেকে একাধিক পুলিশি গুপ্তচর ঘোরাঘুরি করছে আর ঘরের ভিতরে চারজন সতর্কিত |”

 “তুমি তো অনেক দূর এগিয়েছো অনাদি, তাহলে এখন উপায়ও কিছু ভাবলে নাকি ?” বরুদা বললো |

মাথায় একটা ফন্দি আসছে...”

ঐতো নারায়ণ বাবুও এসে গেছেন |”

 

 

নারায়ণ বাবু ছাদে এসে আমাদের বললেন নিচে একজন পুলিশি চর এসেছেন যাকে অরুনলাল বাবুর বাড়ির আশেপাশে নজর রাখতে বলা হয়েছিল | আমরা নিচে আসতে দেখলাম একজন যুবক খুব সাবধানে নকল দাড়ি গোফ খুলে টেবিলে রেখে আমাদের দেখে বললেন,

 “অরুনলাল বাবুর বাড়ির আশেপাশে তেমন কিছু ঘটেনি তবে সন্ধ্যার পর কেউ একজন চাদর মুড়ি দিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে সামনের বিল্ডিং- যায় এবং খানিক পরেই ফিরে আসে | এবং কিছুক্ষন পরে সেই বিল্ডিং থেকে বেরিয়ে এলো একজন ছিমছাম গরনের বয়স্ক লোক, চোখে সরু ফ্রেমের চশমা | ছদ্মবেশে আমি তার পিছু নিই; তিনি খুব ব্যাস্ততার সহিত সজাগ দৃষ্টিতে শেক্সপিয়র সরণি ছাড়িয়ে হ্যাঙ্গের ফোর্ড স্ট্রিটের মোড়ের কাছে একজনের সাথে দেখা করলো | সেই লোকটাও অপেক্ষাকৃত তরুণ বেশ বলিষ্ঠ | দূর থেকে আমি লক্ষ্য করলাম বয়স্ক লোকটা তার ওপর কিছুটা অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে আবার হনহনিয়ে এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতে সেই বিল্ডিং- প্রবেশ করলো | দু’জনকে নজর রাখতে বলে আমি সোজা এখানে চলে আসি | তবে আসার সময় বেশ কয়েকজনকে এখানে ওখানে ঘুরতে দেখলাম তেমনটা এই এলাকায় হয়েই থাকে

 

এই বলে আগত গুপ্তচরটি দীর্ঘশ্বাস নিলেন | নারায়ণ বাবু তার পিঠ চাপড়ে দিয়ে বললেন, সাবাস ! বেশ ভালো কাজ করেছো দীনু |”

 

সত্যিই খুব ভালো কাজ করেছো, তুমি আমাদের কাজটাই এতো সহজ করে দিলে কি বলবো...

নারায়ণ বাবু এখন তো সিম্পল, আপনার বাঘ যে এখন গুহায়, ফাঁদ ফেলে ধরে নিন ...|”

কিন্তু বাঘ যে শিকারে বেরোবেই নিশ্চয়তা কোথায় ?” বরুদা বললেন |

সামনে সুস্বাদু হরিণের টোপ দিলে ফাঁদে পড়বে নিশ্চই |”

 

 

আমাদের কথা চলছিলো ঠিক তখনি সুভাষিণী দেবী ডিনারের জন্য ডাক দিলেন | ডিনার টেবিলে তেমন কিছু কথা হলোনা তবে বরুদা সুভাষিনী দেবীর হাতের রান্নার তারিফ না করে পারলেন না | সত্যিই সে স্বাদ বড়ই মধুর | তাঁর মুখের হাসি , রান্নার স্বাদ , আপ্যায়ন , নম্র ব্যবহার- সত্যিই তিনি সুভাষিণী |

 

ডিনার শেষে নারায়ণ বাবুকে ডেকে বললাম,

কিছু মনে করবেন না আমার অন্য একটা অনুরূপ ছোট্ট ডায়েরি আর কিছু পুরানো অপ্রয়োজনীয় কাগজ লাগবে |”

ডায়েরিটা একটা আছে ঠিকই আমার তবে এরকম বাঁধানো নয়, আর কাগজ- কাল সকালে দিই ? কিন্তু এগুলো দিয়ে হবে কি ?”

হরিণ বানাবো, খুব আকর্ষণীয় নাদুসনুদুস হরিণ- যা দেখে আপনার বাঘ ফাঁদে পড়বেই | আচ্ছা তাহলে ওই কথাই রইলো কাল সকালে ওগুলো দেবেন |”

 

 

রাতে আমাদের তিনজনের জন্য একটি রুম বরাদ্ধ হলো | ঘুমাতে যাওয়ার আগে দুদিক থেকে বরুদা এবং অনিকের প্রশ্নবানে রীতিমতো জর্জরিত হতে হলো | সারা দিনের ছোট ছোট কৌতূহল গুলো এবং আগামীকালের জন্য কি ভাবছি ইত্যাদি ইত্যাদি...।

অনাদি, অরুনলাল বাবুর দরজার আড়ালে ওটা কে ছিল ?”

আমার বিশ্বাস এটা বরুদা ভালো বলতে পারবে |”

পায়ে কালো রঙের স্লিপার জোড়া আর বাদামি রঙের প্যান্ট...”

দাঁড়াও- ওরকম প্যান্ট তো প্রকাশ বাবু পড়েছিলেন- তারমানে ইনিই... আর ওখান থেকে বেরোনোর সময়ও তো উনি দেখা করতে এলেন- তারমানে উনি জানতেন বাক্সটা আমরা নিয়ে আসছি ?”

হ্যাঁ, সেরকমটা হতেও তো পারে

কাল কি করবে ভাবছো বলোতো ? আর গুপ্তচর দীনুকেই বা ইশারা করছিলে শুনি

খুব সিম্পল একটা কাজ অনিক সেটা কালকেই দেখতে পাবে- চলো ঘুমানো যাক |”

দূর, তুমি শোধরালেনা

 

 

ঘুম ভাঙলো যখন দেখলাম ঘড়িতে সাড়ে ছটা বাজে, বরুদা আগেই উঠে পড়েছে | নারায়ণ বাবু হাতে করে একটা ডায়েরি পুরানো কাগজের বান্ডিল নিয়ে ঢুকলেন | কনুয়ের গুঁতোয় অনিক কে ঘুম থেকে তুললাম

 

এই যে তুমি যা যা বলেছিলে সেগুলো এই টেবিলের ওপর রাখলাম | তোমরা উঠে ফ্রেশ হয়ে বাইরে এসো বরুদা ওখানেই আছে |”

 

খানিক পর ফ্রেশ হয়ে আমরা বাইরে বেরোলাম | প্রাতরাশ টেবিলে বরুদা হেসে বললো, “ঘুম হলো তাহলে ? গল্পের ক্লাইম্যাক্সের উত্তেজনায় বেশিক্ষণ ঘুমাতে পারলাম না |”

 

প্রাতরাশ সেরে বসবার ঘরের টেবিলের ওপর হুমড়ি খেয়ে আমরা চারজন আবার সেই বাক্সটা নিয়ে পড়লাম, নতুন ডায়েরি কাগজের বান্ডিলে বারুদ মাখিয়ে ঠিক আগের মতো ভাবে সব কিছু যথা জায়গায় রেখে দিলাম তারপর ছুরির ডগা দিয়ে লক প্যানেলটায় কয়েকটা আঁচড় কেটে বাক্সটার মোড়কটা পড়িয়ে দিয়ে স্বর্ণতারকা দিয়ে উল্টো দিকে প্যাঁচ দিলাম এবং সাথে সাথেই বাক্সটা ঠিক আগের মতো এঁটে গেলো | ট্যাগ-প্লেটটা যথাস্থানে লাগিয়ে দিয়ে বাক্সটা নারায়ণ বাবুর সোপর্দ করে দিয়ে বললাম, “এই আপনার হরিণ, এবার কয়েকটা কাজ করে ফেলুন তো | অরুনলাল বাবুকে ফোন করে জানান আমরা কিছুই উদ্ধার করতে পারিনি, ওখানে যাচ্ছি বাক্সটা নিয়ে এবং এই বাক্সটার কথা তাঁর ছেলেদের প্রকাশ্যে জানানোর সময় হয়েছে- এbবং এতেই  বাক্সটা সুরক্ষিত থাকবে |”





পরবর্তী অংশ আগামী পর্বে 
গল্পটা ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করবেন । 
যোগাযোগ করুন rajeshmallick1997@gmail.com

The Mallick Empire

Welcome to The Mallick Empire, your number one source for all things like : Sports Updates, Explanatios, books, and others. We're dedicated to providing you the very best of Sports News and updates. And Try to provide you the very best experts' view on Cricket, football etc. Founded in 24th January,2022 by Rajesh Mallick. The Mallick Empire has come a long way from its beginnings in Makardah, Howrah-711409, West Bengal. When Rajesh Mallick first started out, his passion & for Educational purpose especially for enlarging the Sports Lovers, book readers etc. Eco friendly livelihood drove them to start their own business. We hope you enjoy our products as much as we enjoy offering them to you. If you have any questions or comments, please don't hesitate to contact us. Sincerely, Rajesh Mallick Makardah, Howrah-711409

Post a Comment

If you have any Queries, Comments Below

Previous Post Next Post